মাদ্রাসার নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল। কেটে সাবার তারাপুর চা বাগানের টিলা

661

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বড়গুল এলাকায় শাহ ওলিউল্ল্যাহ রহ: জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে রইছ উদ্দিন নামক একজন কথিত মৌলানার বিরুদ্ধে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন কুমারগাঁও মৌজার ৪৬৬নং খতিয়ানের ২০৫৭ নং দাগে তারাপুর চা বাগানের অর্ন্তগত বড়গুল এলাকায় ৬৮ একরের দুটি পাহাড়, যার মালিক শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর পক্ষে সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত। দুটি পাহাড়ই কেটে কেটে অবৈধভাবে নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে গড়ে তোলা একটি টিনের স্থাপনা। দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা বাগানের প্রায় ১৮ বিঘা জমি দখল করে ভুমিতে থাকা টিলা কেটে সাবাড় করে সেখানে টিন দিয়ে কাঁচা ঘর তৈরি করে শাহ ওলিউল্ল্যাহ রহ: জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন রইছ উদ্দিন নামে একজন ব্যাক্তি। আবার ভুমি দখল টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরীব পরিবারের কিছু বাচ্চা এনে এতিমখানার নামে সেখানে রেখে কৌশল নেয়া হয়েছে ভুমির দখল রক্ষার। 

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কথিত মৌলানা রইছ উদ্দিন একজন চিহ্নিত ভুমি খেকো। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে বড়গুল এলাকার মৃত মিসকিন আলীর ছেলে মঈন উদ্দিন ও আল আমীনের সহায়তায় দেবোত্তর সম্পত্তির টিলা দখল করে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন রইছ উদ্দিন। তারাপুর চা বাগানের অর্ন্তগত দেবোত্তর সম্পত্তির প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে থাকা টিলা কেটে সাবাড় করে সেখানে টিন দিয়ে কাঁচা ও অর্ধ-পাকা ঘর তৈরি করে এতিমখানার নামে কিছু বাচ্চা এনে রেখে দেন। হিন্দু সম্পত্তি দখল করে মাদ্রাসা তৈরিতে এলাকাবাসী তখন বাধা দিলেও সন্ত্রাসী বাহিনীধারা এলাকাবাসীকে হুমকি ধামকি প্রদর্শন ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিদ্বারা প্রশাসনকে মেনেজ করে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে নিয়ে নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়গুল এলাকার বেশ কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীর সাথে রইছ উদ্দিনের বেশ ঘনিষ্টতা রয়েছে। যার ফলে মাদ্রাসার নামে জোর পুর্বক দেবোত্তর সম্পত্তি দখল ও টিলা কেটে সাবাড় করলেও কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেনা। এলাকাবাসী জানান এব্যপারে আমরা প্রশাসন ও তারাপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কয়েকবার পুলিশও এসেছিল কিন্তু রহস্যজনক কারনে রইছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা রোধ করা হয়নি। বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে রাখার হাতিয়ার হিসাবেই মুলত রইছ উদ্দিন এতিমখানার নামে সেখানে কিছু গরীর পরিবারের বাচ্চাদের জড়ো করে রেখেছেন।এলাকার লোকজনের জানান, কেউ তার টিলা কাটা বা ভুমি দখলের বিরুদ্ধে কথা বললে এতিমখানার নামে রাখা বাচ্চাদের ক্ষতি করে প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার হুমকি দেন রইছ উদ্দিন এবং তারা সহযোগী মঈন উদ্দিন ও আল আমীন। ভুমি দখলদার রইছ উদ্দিনের সাথে কথা বলতে কথিত মাদ্রাসায় গেলে তাকে মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসায় অবস্থানকারী একজন লোক তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে উক্ত প্রতিবেদককে রইছ উদ্দিনের ঠিকানা দিলে সেই ঠিকানা অনুযায়ী সিলেটের আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার বন্ধন সি/২৯ মা-মহল নামে একটি বাসায় গিয়ে দেখা যায় দীর্ঘ দিন থেকে সেই বাসায় বসবাস করে আসা রইছ উদ্দিন ঝাড় ফুকের নামে সেখানে একটি চেম্বার খোলে প্রচুর মহিলাদের ঝাড় ফুকে ব্যস্ত রয়েছেন। একজন হুজুর হয়েও কেন তিনি মাদ্রাসা, এতিমখানার নামে হিন্দু সম্পত্তি দখল এবং চা বাগানের টিলা কেটে সাবাড় করছেন জানতে চাইলে রইছ উদ্দিন বলেন, আমি এই সম্পত্তি দখল করিনি। বড়গুলের মঈন উদ্দিন ও তার ভাই আল আমীন সেই জায়গা দখলে রাখতে আমাকে দিয়ে মাদ্রাসা তৈরি করিয়েছেন এবং আমার নামে একটি আমমোক্তার নামা করে দিয়ে সেই সম্পত্তি দেখাশুনা করার দায়িত্ব দিয়েছে। আপনি হিন্দু সম্পত্তিতে মাদ্রাসা বা এতিমখানা তৈরি করতে রাজি হলেন কেন জানতে চাইলে সেই ব্যাপারে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নি। এমন কি তাকে দেয়া আমমোক্তার নামা দেথাতে বললেও তিনি তা দেখাতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যবসায়ী রাগীব আলীর রাহুমুক্ত হয় দেবোত্তর সম্পত্তি। এর পর রায়ের প্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর পক্ষে সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে উক্ত সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেন। এর পর হইতেই মাদ্রাসা তৈরিসহ নানা ভাবে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে কয়েকটি চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে।