সিলেটবাসীর স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে, সিলেট টু লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট এপ্রিলে

390

সিলেটবাসীর স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট  আগামী বছর এপ্রিল থেকেই চালু হচ্ছে। এটি হলে লন্ডনে বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবে। বর্তমানে সিলেটবাসীকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে লন্ডনে যেতে হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক বলেন, আগামী এপ্রিলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে সরকার। লন্ডনের বেশি যাত্রী সিলেটের। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এরই মধ্যে ওসমানী বিমানবন্দরকে ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। এজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে কাজ বাস্তবায়নের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহত্তর সিলেটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি লন্ডনের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট। ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে নিয়মিত লন্ডনে যাতায়াতকারী সিলেটের অরকন চৌধুরীসহ কয়েকজন যাত্রী সমকালকে জানান, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের লন্ডনগামী ফ্লাইট চালু হলে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। এতে সময় ও বিভিন্ন ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবেন লন্ডনগামী বৃহত্তর সিলেটের যাত্রীরা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সিলেট-লন্ডন সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ করছে বেবিচক। এরই মধ্যে বিমানবন্দর ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে। প্যাসেঞ্জার ও কার্গো পরিবহন বেড়ে যাওয়ায় বেবিচক প্রায় ৩৫ হাজার বর্গমিটারের অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিকমানের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। কার্গো ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, পার্কিং, ট্যাক্সিওয়েসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

সিলেটের প্রচুর মানুষ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। বাংলাদেশের বেশিরভাগই প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রই সিলেটে। গ্যাস সংযোগ সহজলভ্য হওয়ায় সিলেটে শিল্প-কারখানার সংখ্যাও  দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর পাশাপাশি বিমানের কার্গো সংখ্যা বেড়েছে। বিমানবন্দরের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে।

এখনও সিলেট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকায় যাত্রীদের আনার পর সরাসরি ফ্লাইট লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হয়। সুপরিসর রানওয়ে না থাকায় লন্ডনে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু করতে পারছিল না বেবিচক।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে ১২ হাজার ১০০ বর্গমিটারের একটি টার্মিনাল ভবন, ৭৫০ বর্গমিটারের কার্গো ভবন ও একটি রানওয়ে রয়েছে। পাশাপাশি দুটি ট্যাক্সিওয়ে, চারটি ছোট ও দুটি বড় প্লেন পার্কিং সুবিধাসহ শেড, দুটি বোর্ডিং ব্রিজ, দুটি এস্কেলেটর আছে। কিন্তু যাত্রী পরিবহনে এগুলো যথেষ্ট নয়। তাই কার্গো ও যাত্রী পরিবহনে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্নিষ্টরা। যে কারণে লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়। এরপর এখান থেকে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও ২০১৪ সালে কুয়াশার অজুহাত দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০১৫ সালে প্রায় ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত হয় রিফুয়েলিং স্টেশন। ২০১৬ সাল থেকে এই রিফুয়েলিং স্টেশনও চালু হয়। কিন্তু এতদিন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট না থাকায় এই স্টেশনের জ্বালানি বিক্রি হয়নি। ফলে চালুর পর থেকেই লোকসানে ছিল এই রিফুয়েলিং স্টেশন। এখন এ স্টেশন থেকে বিমানের জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।

বেবিচক সদস্য এয়ার কমডোর খালিদ হোসেন বলেন, সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। এটি শেষ হলে সিলেট থেকে বিমানের ফ্লাইট সরাসরি লন্ডনে যেতে পারবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল বলেন, সিলেট থেকে লন্ডনে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।