শিবির সভাপতির বাড়িতে আওয়ামী লীগ এমপির দাওয়াত, দেশব্যাপী আলোচনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ

531

ছরওয়ার হোসেন, নিউ ইয়র্ক :: সিলেট- ৬ (গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার)’র সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ  গোলাপগঞ্জের এক শিবির সভাপতির বাড়িতে সদলবলে তামদারী খেয়েছেন, যা সংবাদ মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়ার কল্যানে দেশব্যাপী ভাইরাল। নেতাকর্মীগণ ব্যাপক ক্ষুব্ধ।  আমি মনে করি, এটা নিয়ে এতো হইচইয়ের কিছু নেই। শিবির সভাপতিতো উনার নির্বাচনী এলাকার বাইরে নন। আপনি শত্রুপক্ষকে ঘৃণা করে তাঁর মন জয় করতে পারবেন না।  বিনয় ও শ্রদ্ধাবোধই আপনার প্রতি শত্রুর মন ও চোখের পর্দা খুলে দিতে পারে। ইসলাম ধর্মের মানবিক মৌলিক শিক্ষাই কেবল ইসলাম ধর্মকে অতি দ্রুত এশিয়ার গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপ-আফ্রিকায় বিস্তির্ণ করেছিলো। আজও ইসলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম। তেমনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ধর্মান্ধ জাতির মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রদান করেও অতি দ্রুত আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণের শ্রেষ্ঠ আস্থার স্থলে পরিণত করেছিলেন কেবল তাঁর মানবিক দর্শন দিয়ে দল ও নেতাকর্মীদের পরিচালনার মাধ্যমে। এটাই চিরসত্য। 

আগষ্টমাসের প্রারম্ভে সারিবদ্ধ দাড়িয়ে চুরে পীরে একত্রিত হয়ে  হাতের তালুতে মোমবাতি জ্বালালেই বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া যায় না। এর জন্য চাই সাধনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি? এর ধরণ কি? এর রুপ, সৌন্দর্য, মাধুর্য্য ও এর ব্যাপকতার অপরিহার্য্যতা কি ছিলো, কেনইবা এখনো প্রয়োজন, তা যদি আমরা অনুধাবন করতে না পারি তবে সমাজে কেবল হিংসা ও বিদ্বেষ জন্মানো ছাড়া কোন পরিবর্তন হবে না। 

আওয়ামী লীগ একটি সফল গণ সংগঠন আর জামাত এখনো গণ সংগঠনের ধারে কাছেও নেই। জামাতের নেতারাও যা স্বীকার করছেন। কিন্তু, কেন? কারণ, আওয়ামী লীগের রয়েছে উদারনৈতিকতা। বিপরিতে, জামাতের রয়েছে আড়ষ্ঠতার ব্যাপকতা। বঙ্গবন্ধু যে যুদ্ধাপরাধী নেতাদের জেল থেকে মুক্ত করে গাড়ী বাড়ী দিয়েছিলেন, এমনকি তাদের পরিবারের ভরণপোষনেরও ব্যবস্থা করেছিলেন, ঐসকল নেতারাই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ‘জাতির সূর্যসন্তান’ আখ্যায়িত করেছিলো। ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শব্দের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো-তাই বলে কি তারা জাতে উঠতে পেরেছে? হ্যাঁ, সাময়িক পেরেছিলো? আজ বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলার আকাশ বাতাসকে ছাপিয়ে বিশ্বনেতাদের  তালিকায় আর ঐ সকল পরশ্রীকাঁতর নেতারা তাদের ঘৃণ্য কর্ম দ্বারা বাংলার কুলাঙ্গারের তালিকায়। বিশ্ব ইতিহাসের বিশ্বাসঘাতক নিকৃষ্ট নেতাদের মাঝে তাদের অবস্থান। ফলে জামাত বা শিবির কিংবা বিএনপিও যা করবে আওয়ামী লীগ তাকে অনুসরণ করা নয়, এর চেয়ে হাজারো গুণে উৎকৃষ্ট কাজ করে মানবিকতা ও ঔদার্য্যতার পরিচয় দিয়ে সমাজ বদলে দিতে নেতৃত্ব দেবে, যা আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ধর্ম। এদিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আরো বলিষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, যিনি আওয়ামী লীগের সভা শেষে মুসলিম লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। চট্রগ্রামে গিয়েছেন আর ফজলুল কাদের চৌধুরীর খোজ নেননি, তা হয়নি। খুলনায় গিয়েছেন আর প্রতিপক্ষ সবুর খানের আতীথেয়তা গ্রহন করেননি, তা হয়নি। অথচ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিপক্ষ জনবিচ্ছিন্ন পাকিস্থানী শাসকগোষ্টির দালাল নেতারা যতো কুৎসিত ভাষায় বঙ্গবন্ধুকে আক্রমন করতো আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের কাফির নেতারাও  ইসলামের সাহাবিদের এতো কুৎসিত ভাষায় আক্রমন করতো কিনা গবেষনার বিষয়। ঢাকার আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল আর্কাইভসে রক্ষিত ষাটের দশকের পত্রিকাগুলোর পাতা উল্টালেই তার প্রমান মেলে। কিন্তু, এদের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার ছিলো কতোই সুমধুর। মানুষ এটা দেখেছে বলেই ভালো আর খারাপের মধ্যে পার্থক্য নিরুপণ করতে পেরেছে। ফলেই একদিন টুঙ্গিপাড়ার খোকা বাঙালির স্বাধীনতার স্থপতিতে পরিণত হয়েছে।

নেতৃত্ব একটি প্রসেস। আপন গুণ দ্বারা পরকে অাপন করাই হলো নেতৃত্বের কাজ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যুগে যুগে এ কাজটিই করেছেন অনায়াসে। আমি চাই বাংলাদেশে সেই যুগ ফিরে আসুক, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে  সৃজনশীল। হিংসা আর ঘৃণার উপর নির্ভরশীল নয়। আর এটাই বঙ্গবন্ধুর আত্নজীবনী আমাদেরকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দেয়। 

তবে দুটি কথা বলে লেখাটি শেষ করবো। চতূর্দিকের তেলের সাগরে আজ সরকারদলীয় এমপি মন্ত্রীরা হাবুডুবু খাচ্ছেন। আমার কাছে তেল নেই। আমার আছে জনগণের ভাষা। দলের সাধারণ কর্মীদের অনুভূতি। তাই যা দেবো, সেটা স্পষ্টবাদিতা। এটা আমার অধিকার। নেতা একজন কর্মীর কথা মনোযোগসহকারে শুনবেন এটা কর্মীর অধিকার। জননেতা নুরুল ইসলাম নাহিদকে যথাবিহিত সম্মানপূর্বক একটি কথা অনুরোধ করবো, আপনার একান্ত পাশ থেকে কিছু জনবিচ্ছিন্ন নেতা নামধারদের সরান। এরা কর্মীদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছেন। দিনে দিনে আপনাকে কু পরামর্শ প্রদান করে আপনার মগজ ধোলাই করে কর্মীদের থেকে আপনাকে যোজন যোজন মাইল দুরত্বে সরিয়ে দিয়েছেন। যদিও বিদেশে থাকি তবু দেশের খবর রাখি। বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জের নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্তার সংকট, বিশ্বাসের সংকট, শ্রদ্ধাবোধের সংকট। সংগঠনের কোথাও চেইন অব কমান্ড নেই। সব ধুলিস্যাত হয়ে গিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ কর্মীরা ত্যাগী, কিন্তু আপনার নাম বিক্রি করে  চরম ক্ষমতাশীল কিছু নেতা সংগঠনের ধ্বংস ডেকে আনছেন। এদেরকে সামলান। 

শিবির সভাপতির বাড়ীতে এম পি সাহেব ভাত খেয়েছেন কেবল তাতেই কর্মীরা ক্ষুব্ধ নয়, তাদের ব্যাপক ক্ষুব্ধতার কারণ হচ্ছে, নাহিদ সাহেবের সঙ্গে কর্মীদের দুরত্ব। কেন এই দুরত্ব, কি এর কারণ, আজ সেটা অনুসন্ধানের সময় এসেছে। অনুসন্ধান করে যথাযত ফলাফল নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ তদন্ত দল। কিন্তু, নুরুল ইসলাম নাহিদ এম পির কি সেই মানুষগুলো আছে? যদি থাকতো তবে গত নির্বাচনের সময়ে এতো দূর্দশার মধ্যেও আনকোরা বিএনপি প্রার্থী ফয়সল চৌধুরী কিভাবে পায় লক্ষাধিক ভোট? আরেকটু অন্যরকম ভোট হলে ফয়সল চৌধুরীর রেজাল্ট কি হতো? কেন এমন হলো? এজন্য দায়ী কে? এর ভবিষ্যত কোথায়? এ প্রশ্নগুলোর উত্তরের মধ্যে নির্ভর করছে অনেক কিছু।