শুদ্ধি তালিকায় সিলেটের ৩ এমপি, চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর

258

শুদ্ধি অভিযানে আতঙ্কিত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা । তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না সে চিন্তায় অনেকের ঘুম হারাম । নেতাদের পাশাপাশি এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন । তদবির করছেন বিভিন্ন পর্যায়ে ।

সবার এক প্রশ্ন তালিকায় সিটিং এমপিদের মধ্যে কারা রয়েছেন । এছাড়া সাবেক এমপি, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের বিষয়েও জানতে অনেকেই উদগ্রীব। অনেকেই দ্বারস্থ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের । কিন্তু সমাধান কারো কাছেই নেই । দলের গুটিকয়েক শীর্ষ নেতা ছাড়া কেউ জানে না, তালিকায় কার নাম আছে ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের কাউন্সিলের ছয় মাস আগে থেকেই তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে থাকেন । সম্মেলনে নের্তৃত্ব নির্ধারণ করতেই এটি করা হয় । এবারও সম্মেলনের আগে সব পর্যায়ের নেতার সম্পর্কে জরিপের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যাওয়ায় তিনি এমপিদের সম্পর্কেও সব খবর নিতে বলেন । এবার সম্মেলনের আগে এই শুদ্ধি অভিযানের মুল কারন-যাতে কোনো বিতর্কিত এবং দু’র্নীতিবাজ দলে ভিড়তে না পারেন । এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে ।

সুত্র জানিয়েছে ২৫-৩০ সিটিং এমপির বিরুদ্ধে তৃণমূল থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ এসেছে শেখ হাসিনার কাছে । রোজার ঈদের আগে থেকে এমপিসহ দলের অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিষয়ে খোঁজ নিতে মাঠে নামে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা । কয়েক দফা মাঠ জরিপ করার পর প্রতিবেদন তৈরি হয় । এতে শুধু দু’র্নীতিবাজ এমপিদের বিষয়ে নয়, নের্তৃস্থানীয়দের অবস্থান কী এবং তারা কী করছেন সব তথ্যই সংগ্রহ করা হয় । খুব গোপনীয়তার সঙ্গে কাজটি করা হয়েছে ।

বিভিন্ন অপরাধ এবং অ’নৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ২৭ এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে । এছাড়া রয়েছে সাবেক ১২ এমপির নাম । সংসদ সদস্য হয়েও এরা স’ন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত । গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে । প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব টিম দিয়ে এই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন।

এই ২৭ এমপির মধ্যে সিলেট বিভাগের তিনজন রয়েছেন । এছাড়া ঢাকা, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর, রাজশাহী-রংপুরসহ অন্তত ১৭টি জেলার ২৭ এমপির বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে ।

তাছাড়া সিলেট বিভাগের বেশ ক’জন উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরসহ অনেকেরই নাম আছে শুদ্ধি অভিযানের তালিকায় । দূর্ণীতি করে কালো টাকা উপার্জন, অন্যের সম্পদ আত্মসাত, বিভিন্ন প্রতিষ্টান থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়, টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য ইত্যাদি অভিযোগ আছে এদের বিরুদ্ধে ।

সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার ৩ সিটিং এমপি, মৌলভীবাজারের ১ সাবেক এমপি আছেন এই তালিকায় । বিভাগের চার জেলার একাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার ২ পৌরসভা মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭ কাউন্সিলর এবং বেশ ক’জন ইউপি চেয়ারম্যানও আছেন শুদ্ধি অভিযানের হিট লিষ্টে । সুত্র এমনটা বলছে ।

অভিযুক্ত অনেকে ইতিমধ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন । কেউ কেউ সুকৌশলে দেশের বাইরে চলে গেছেন । যারা দেশে আছেন তারা নিজেদের আড়াল করে রাখছেন, সুযোগ খুঁজছেন দেশান্তরি হওয়ার ।