সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ৫ বছরের শিশু তুহিন হত্যায় পরিবারের ৩ সদস্য জড়িত: পুলিশ

419

নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সুনামগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়া হত্যাকাণ্ডে পরিবারের ২/৩ জন সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় দিরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান জানান, আমরা তুহিনের পরিবারের ৬/৭জন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছিলাম। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এদের মধ্যে ২/৩ জনের সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। তারা হত্যার সাথে জড়িত বলে পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছে।

‍”এটি প্রতিহিংসাবশত হতে পারে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হতে পারে, আবার মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে; তদন্তের স্বার্থে এখন সবকিছু বলা যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, নিহতের বাবাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন মামলার আসামি। এলাকায় তাদের একাধিক প্রতিপক্ষ রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। তবে কোন ২/৩জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা এড়িয়ে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, “এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সবাইকে আটক দেখানো হচ্ছে না। পুরোপুরি জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।”

উল্লেখ্য, রোববার শেষ রাতে দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাসিতের ছেলে তুহিন মিয়াকে (৫) হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে অজ্ঞাত খুনিরা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে শিশু তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তার পেটের মধ্যে ঢুকানো ছিলো দুটি ছুরি। ডান হাতটি গলায় বাধা রশির ভেতরে ঢুকানো ছিলো। বাম হাতটি ঝুলে ছিলো দেহের সঙ্গে। কেটে নেওয়া হয়েছে শিশুটির কান ও লিঙ্গ। তার পুরো শরীর ভিজে আছে রক্তে। বর্বর-নৃশংসতায় শিশু তুহিনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার বিকালে তুহিনের বাবা আব্দুল বাসির, চাচা আব্দুল মসব্বির, নাসির উদ্দিন, চাচি খায়রুল নেছা, চাচাত বোন তানিয়া ও প্রতিবেশী আজিজুল ইসলামসহ সাতজনকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।