সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

282

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) তাদেরকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত রাজনু মিয়া (৩৫) সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাঘমারা গ্রামের নফাই মিয়া’র পুত্র অপরজন একই উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের সত্তার মিয়া’র স্ত্রী শাহেনা বেগম ওরফে সুহানা (৩০)।
থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার রাজনু মিয়া মানবপাচারকারী সংঘবদ্ধ দলের অন্যতম একজন সদস্য। তিনি তীর্ঘ দিন থেকে উপজেলার বিভিন্ন অসহায়-গরীব মহিলাদের বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা ও নির্যাতন করে আসছিলেন। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ছত্তিশ গ্রামের এক কিশোরীকে মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে পাঠানোর নামে ভিকটিমের পরিবারকে নানা প্ররোচনা দিতে থাকে রাজনু। পরিবারে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা থাকায় ভিকটিমের মা মেয়েকে ওমান দিতে রাজি হন এবং রাজনু মিয়ার কাছে মেয়ের পাসপোর্ট ও নগদ ৭০ হাজার টাকা দেন। এরপর রাজনু  ভিকটিম কে ওমান পাঠানোর কথা বলে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ঢাকায়  নেয়ার কতা বলে সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

ঘটনার প্রায় ১ মাস পর ভিকটিমের মা রাজনু মিয়া কাছে তার মেয়ের খোঁজ জানতে চাইলে সে জানায় তাকে ওমান পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় ভিকটিমের মা জানতে পারেন যে তার মেয়েকে ওমানে না পাঠিয়ে দালাল রাজনু তার সহযোগী একই গ্রামের সাহেনা বেগমের বাড়িতে আটকে রেখেছে। এই খবর জানতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভিকটিমকে তার মা উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে রাজনু ও তার সহযোগী সাহেনাসহ মোট তিনজনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।তার প্রেক্ষিতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ রাজনু ও তার সহযোগী সাহেনাকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, মামলায় মোট তিনজনকে আসামী করা হয়েছে। এরমধ্যে দুইজন আসামীকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিসে পাঠানো হয়েছে। মামলার ৩য় আসামী সত্তার মিয়া ওমানে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।