মানবজীবন আর স্বাভাবিক অবস্থায় না-ও ফিরতে পারে : মার্কিন গবেষক

21050
{"source_sid":"C5E16D61-51FD-4781-A7FD-27D0AEB687B9_1586427602798","subsource":"done_button","uid":"C5E16D61-51FD-4781-A7FD-27D0AEB687B9_1586427602795","source":"other","origin":"gallery"}

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আর প্রাণ নিয়েছে ৮৮ হাজারের বেশি। করোনার কারণে এখন বিশ্ব অর্থনীতিরও টালমাটাল অবস্থা। এতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে মানবজীবনে।

এমন অবস্থায় এক আতঙ্কের কথা শোনালেন এক মার্কিন গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক অ্যান্থনি ফৌসি বলেছেন, মানবজীবন তার আগের অবস্থায় আর না-ও ফিরতে পারে।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে অংশ নিয়ে মার্কিন বিজ্ঞানী ড. অ্যান্টনি ফৌসি সাফ বলে দিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোতে আগের মতোই সমাজব্যবস্থা থাকবে, তবে করোনার আগের সেই পরিচিত বিশ্ব আর থাকবে না। আপনি যদি সেই আগের সেই পরিচিত ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চান, তাহলে মনে রাখবেন, আর কোনোদিনই তা সম্ভব না-ও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া বলতে আপনারা যদি ভাবেন, করোনাভাইরাস আসার আগের পৃথিবীতে ফিরে যাবেন, তাহলে আমি মনে করি তেমনটা আর হচ্ছে না, যদি না গোটা জনসংখ্যাকে সুরক্ষিত করতে পারি। তবে আমি মনে করি একটি প্রতিষেধকই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।’

করোনার সবচেয়ে ঘাতক পর্যায় বা ‘পিক ডেথ উইক’-এ প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ এই সপ্তাহে মার্কিন মুলুকে কোভিড-১৯ সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে ১৪ হাজার ৭৯৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ২২ হাজার ৮৯১ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেসের পরিচালক ড. ফৌসি। এর আগে এই মার্কিন গবেষক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মার্কিনিরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতি মেনে চললেও যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা যাবে এক থেকে প্রায় আড়াই লাখ (২ লাখ ৪০ হাজার)।’

এদিকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রতিষেধক খুঁজে বের করতে ঘুম হারাম গবেষকদের। জানা গেছে, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলস ও নর্থওয়েল হেলথসহ প্রায় তিন ডজন চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে কোভিড-১৯ মহামারি নিরাময়ের উপায় খোঁজার চেষ্টা চলছে। করোনা নিরাময়ে ইবোলার ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে সেখানে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে যক্ষ্মা রোগের বিসিজি টিকা নেয়া হয়, ওইসব দেশগুলোতে করোনায় মৃত্যুহার প্রায় ৬ গুণ কম সেসব দেশের তুলনায় যেসব দেশে এই টিকা আ-দৌ নেয়া হয় না। বিসিজি ভ্যাকসিন করোনা প্রতিরোধে কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

এছাড়া ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোরোকুইন করোনায় কার্যকর কি-না, তা নিয়েও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।