‘ট্রাম্প মৃত্যুঘড়ি বসানো হয়েছে’ নিউইয়র্কে

634

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বসানো হয়েছে এক অন্য রকম বিলবোর্ড। ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নামের ওই বিলবোর্ডে লেখা হয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত মানুষের সংখ্যা। তবে এই সংখ্যাটা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় করোনাভাইরাসে কতজন মারা গেছেন, সেই সংখ্যা। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকায় সন্তুস্ট নন অনেকে। সম্প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এ নিয়ে বেশ ধুয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পকে। অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন, করোনায় মৃত্যুর হার অনেক কম হতো। তেমন একজন ইউজিন জারেকি। 

সেই ক্ষোভ থেকেই ‘মৃত্যুঘড়িটি’ তৈরি করেছেন এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। মহামারির কারণে ফাঁকা টাইমস স্কয়ারের একটি বাড়ির ছাদে এটি বসানো হয়েছে।সোমবার পর্যন্ত ওই বিলবোর্ডে মৃতের সংখ্যা ৪৮ হাজার লেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৮১হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। যা বিশ্বের অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি। 

খবর বাপসনিঊজ।এক পোস্টে ঘড়িটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জারেকি। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড–১৯ রোগে মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশ ঠেকানো সম্ভব হতো, যদি ট্রাম্প প্রশাসন বাধ্যতামূলক সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়টি এক সপ্তাহ এগিয়ে দিত। অর্থাৎ, ১৬ মার্চের বদলে ৯ মার্চ লকডাউন হলে মৃত্যুে হার অনেক কম হতো। এসব মৃত্যু রোধ করা যেত। এ ধারণা থেকেই ঘড়িটি তৈরি। 

জারেকি নিউইয়র্কভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি দুবার সানড্যানস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফসির মন্তব্য অনুসরণ করে বিশেষজ্ঞরা ওই ৬০ শতাংশ গণনা করেছেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ফসি সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগেই করোনা ঠেকানোর ব্যবস্থা নিলে অনেক জীবন রক্ষা পেত। 

জারেকি বলেন, ‘অনেক জীবন অকারণে ঝরে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আরও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চাই।’এদিকে আমেরিকায় আড়াই শতাদিকের বেশী বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।