বীর মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার মোঃ আব্দুল মুছব্বির এর আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

597
{"source_sid":"C5E16D61-51FD-4781-A7FD-27D0AEB687B9_1591328945820","subsource":"done_button","uid":"C5E16D61-51FD-4781-A7FD-27D0AEB687B9_1591328945814","source":"other","origin":"gallery"}

বীর মুক্তিযুদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মোঃ আব্দুল মুছব্বির এর আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

‘‘এমন জীবন তুমি করিবে গঠন/ মরিলে হাসিবে তুমি কাদিঁবে ভুবন।’’
কবির এই কথাটাকে সত্য করে কোটি মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন, তিনি আর কেউ নয়। বীর মুক্তিযুদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মোঃ আব্দুল মছব্বির। ১৯৪৬ সালের ৫ জানুয়ারি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারা থানার মাথিউড়া ইউনিয়নের পুরুষপাল গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন আব্দুল মছব্বির। তারঁ পিতার নাম হাজী ফরিজ আলী। বংশের দিক থেকে হাজী ফরিজ আলী ছিলেন উ”চ বংশীয় উ”চ শিক্ষিত এবং প্রচুর অর্থ সম্পদের অধিকারী। আব্দুল মছব্বির এর মাতার নাম মোছাঃ কুলছুমা খাতুন। তিনি একজন সম্ভান্ত্য বংশের রুপবতী, পূন্যবতী, সর্বগুন সম্পন্ন মহিলা ছিলেন। আব্দুল মছব্বির ছোটবেলা থেকেই খুব দুরন্ত ছিলেন। তাঁর স্বা¯’্য ও ছিল মোটামুটি ভালো। তাঁর বাড়ির পাশেই ছিল বড় পুকুর, মা- বাবার অজান্তে সুযোগ পেলে পুকুরে সাতাঁর কাটতেন বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা। ছেলেবেলা থেকেই তিনি বন্ধুদের সাথে একত্রে মিলিত হয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেন। ছেলেবেলা থেকে নানা গুণের অধিকারী ছিলেন আব্দুল মছব্বির। শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল পাঁচ বছর বয়স থেকে। তিনি পারিবারিক ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন বাড়ির পাশের পুরুষপাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাইমারির গন্ডি পেরিয়ে বড়লেখা পি.সি হাই স্কুলে ভর্তি হন তিনি। স্মরন শক্তি ও মনোযোগ ছিল প্রচুর লেখাপড়ায়। সর্বদা ভালো রিজাল্ট করতেন তিনি। ছেলেবেলা থেকেই আব্বার মতই শারিরিক গঠন ছিল আব্দুল মছব্বিরের, হাটি হাটি পা পা করে হাই স্কুলের গান্ডি পেরিয়ে আসেন তিনি। ১৯৬২ হতে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত আব্দুল মছব্বির মার্শাল ল এবং শিক্ষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে বিয়ানীবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি মদন মোহন কলেজে ভর্তি হন। তিনি নিজের সবুজে ঘেরা গ্রামকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। আর এজন্যই তিনি সিলেট হতে বিদ্যাপীঠ পরিবর্তন করে নিজ এলাকায় আসেন। বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন মোঃ আব্দুল মছব্বির। ১৯৭০ সালে বিয়ানীবাজারে হাতে গুনা মোটর সাইকেল ছিল তখন। তখনকার সময় ওনার একটা মোটর সাইকেল ছিল (হোন্ডা ৫০)। মোঃ আব্দুল মুছব্বির মোটর সাইকেলে চড়ে কলেজে যেতেন। তিনি সব সময় খুব র্স্মাট ভাবে চলাফেরা করতেন। ওনার (গোঁফ) স্টাইল দারুন ছিল। তিনি নিজ কর্ম গুনে এবং নেতৃত্বের গুনাবলি দ্বারা বিয়ানী বাজার কলেজের ছাত্র সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ভিপি মনোনীত হন। তিনি শুধু বিয়ানীবাজার কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা ভিপি নন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নিজ হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিয়ানীবাজার উপজেলাং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ছিলেন। তিনি একজন মেধাবী ছাত্র সেই সাথে একজন দক্ষ নেতৃত্বের নায়ক ছিলেন। তদুপরি তাঁর অমায়িক ব্যবহার, মধুর আচরন, সবার কাছেই সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। যার ফলে তার হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যাত্রা শুরু করে বিয়ানীবাজার কলেজে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের অন্যতম সংগঠন ছাত্র সংসদ। তিনি কঠোর প্ররিশ্রম করে সবার জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন। আব্দুল মুছব্বির কোন কাজে হেরে যাননি। সব সময় সকল কাজে জয়ী হয়েছেন। তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন। তাঁর সহজ সরল চাল- চলন মিষ্টি ব্যবহার মানুষের মনকে মুগ্ধ করেছিল।
১৯৭০ সালের বিয়ানীবাজরের আখাখাজনা গ্রামের সম্ভান্ত্য পরিবারের কন্যা মোছাঃ রওনক জাহান সুলতানাকে বিবাহ করেন। অত্যন্ত জাকজমকের সাথে বিয়ের উৎসব সম্পূর্ণ হয়। পারিবারিক জীবনে অনেক সুখে সা”ছন্দে জীবন কাটছিল ওনার। ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। দলভাগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় দামাল ছেলেরা মিটিং করতে দেখা যায়। শুরু হয় যুদ্ধের প্রস্তুতি। আব্দুল মুছব্বির ছাত্রনেতা হওয়ায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ তৎকালীন রেসর্কোস ময়দানে বসে শুনেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজ চক্ষু ভরে দেখেন। তিনি আবেগ প্রবন হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে একই মঞ্চে বসে। তিনি অনুপ্রানিত হন সেই আগুন ঝরা শ্লোগানে।
‘‘ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম.”
কালজয়ী এই ভাষণ শুনে তার রক্ত শিরায় শিরায় টগবগিয়ে উঠে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি দেশ মাতিৃকাকে ভালোবেসে, বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণে অনুপ্রানিত হয়ে মুক্তিকামী মানুষের কথা ভেবে, পাকিস্তানীদের বৈষম্য হতে দেশকে মুক্ত করতে, জাতির পিতার আদেশে মোঃ আব্দুল মুছব্বির মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
“ এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার. তার শেষ্ঠ সময়, সারা পৃথিবী কাপানো উ”চ কন্ঠের এই কাবিতাটি মাতৃভুমি প্রেমিক অনেক ছাত্রনেতা সহ সাধারন মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহনে ধাবিত করার জন্য প্রেরণা যুগিয়েছিল। মুক্তিকামী মানুষকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে জন্মভূমিকে পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রথমে একমাস গেরিলা ট্রেনিং করেন। তারপর খানেক জে এল ডাবিøউ প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে ৪ নং সাব সেক্টরের ৪ নং সেক্টরে যোগদান করেন।
যুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে ভাগে হানাদার পাক বাহিনীর দোসররা আব্দুল মুছব্বিরের বাড়ি জালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। তখন ওনার মা কুলছুমা খাতুন সহ পরিবারের সবাই আশ্রয় নিয়েছিলের বড় বোনের বাড়িতে। আব্দুল মুছব্বির ঘর পুড়ানোর খবর শোনে এক নজর দেখতে ছোটে যান বোনের বাড়িতে। ওনার মা ওনাকে দেখামাত্রই বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। মাকে একনজর দেখে শান্তনার বাণী শুনিয়ে ফিরে যান বিয়ানীবাজার। ততক্ষণে অনেক সহযোদ্ধা এসে জড়ো হয়েছেন বিয়ানীবাজারে। তাদেরকে তিন গ্রুপে বিভক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ করেন। যৌথ বাহিনীর আক্রমনে দিশেহারা হয়ে হানাদার বাহিনী পিছু হাটতে বাধ্য হয়। আকাশে বাতাশে মুখরিত করে ধ্বনিত হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। দীর্ঘ ৯ মাস রণাাঙ্গনে মরণপণ যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বর সূর্য উদয়ের সাথে নিজের জন্মস্থান বিয়ানীবাজারে এসে পৌছান আব্দুল মুছব্বির সহ সকল যোদ্ধারা। এলাকার মানুষ ঘুম থেকে উটে পুরা অঞ্চল জয় বাংলার শ্লোগানে মুখরিত করে তুলেন। গ্রামের সকল মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হন সকল মুক্তি যোদ্ধারা। স্বাধীন দেশে বাতাসের পত পত করে উড়তে থাকে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা। যা মা বোনের ইজ্জত সম্ভমের ¦ং লাখো শহীদের লাল রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। বিয়ানীবাজারে হাতে গুনা কয়েকজন কমান্ডার ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ছাত্র নেতা বীর মুক্তিযুদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার জনাব আব্দুল মুছব্বির। যুদ্ধের পর গ্রামে ফিরে ১৯৭২ সালে আবার নতুন করে ঘর তৈরী করেন তিনি। এর পরই তিনি মারাত্মক ভাবে নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘ দিন রোগের সাথে যুদ্ধ করে আবার নিজেকে শক্তিশালী করে ঘুরে দাড়ান তিনি। বিবাহিত জীবনে আব্দুল মছব্বিরের ঘর আলো করে ৩ কন্যা সন্তান ও ১ পুত্র সন্তানের গর্বিত বাবা হন তিনি। দাম্পত্য জীবনে ছিলেন একজন সুখী মানুষ তিনি। স্বাধীনত্রা পরবর্তীতে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক যুদ্ধা। তার প্রমাণ পাওয়া যায় ছাত্র রাজনৈতিক হতে। আওয়ামিলীগের রাজনীতেতে বিয়ানীবাজারে সুসংগঠিত করার মধ্য দিয়ে, তিনি কাজ করে গেছেন অত্যন্ত নিরলস ভাবে। যা বর্তমানে রাজনীতিদের কাছে উদাহরণ সরূপ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু মারা যাবার পর দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। ১৯৭৫ সালে প্রথমে জার্মান পরে লন্ডন চার বছর থেকে দেশে আসেন। পরিস্তিতি শান্ত হবার পর। ১৯৮০ সালে দেশে এসে বিয়ানীবাজার কলেজ রোড ফার্নিচারের দোকান করেন তিনি। যে দোকানের নাম ছিল পলাশ কাঠ বিতান। পাশাপাশি তিনি কৃষি নিভর অনেক জমি ক্রয় করেন সেখানে। এলাকার গরিব দুঃখীদের কাজের কর্মসংস্থানা করে দেন সেখানে। কাজের ফাঁকে অবসরে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের বিজয় দিবস সহ নানা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতেন। এলাকার সবাই ওনাকে অতিথির আসনে পেয়ে গর্বিত হত। তিনি দেশাত্ববোধক গান বেশি পছন্দ করতেন। স্কুলের ছোট ছোট বা”চাদের মুখে দেশের গান শুনলে তিনি অতীতে ফিরে যেতেন। এক দৃষ্টিতে পতাকার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। বা”চাদের সাথে তিনি ও ঠোঁট মিলিয়ে গান করতেন।

“এক নদী রক্ত পেরিয়ে/বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা/ তোমাদের এই ঋণ কোন দিন শোধ হবেনা। না-না-না শোধ হবে না/মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়িয়ে/ সাতকোটি মানুষের জীবনের সন্ধান আনলে যারা/ সে দানের মহিমা/ কোন দিন ¤øান হবেনা/ না-না-না ¤øান হবে না।

গ্রামের নানা প্রতিকুলতায় তিনি সবার সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিলেন। ১৯৮৮ সালে সদূর আমেরিকা পাড়ি জমান আব্দুল মছব্বির। দীর্ঘ একুশ বছর প্রবাসে কাটান তিনি। আমেরিকার মিশিগানে বসবাস করতেন। সেখানে ও সামাজিক রাজনৈতিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। মিশিগানে বসবাসকারী বিয়ানীবাজারের জনসাধারণের গড়ে তোলা সংগঠন, বিয়ানীবাজারের সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সাবেক কমান্ডার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, আমেরিকা। সাবেক যুগ্ম আহব্বয়ক, ঘাতক দালাল নির্মূলে কমিটি, আমেরিকা। সাবেক উপদেষ্টা জালালাবাদ এ্যাসোসিয়েশন ইনক আমেরিকা এবং সাবেক সহ সভাপতি। ফুটবল ফেডারেশন অব আমেরিকা ইনক। এছাড়া ও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সমাজ সেবামূলক সংগঠন বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সহিত পালন করেছেন। প্রবাস জীবনে তিনি একবার গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারাত্মক ভাবে আহত হন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধিন থাকার পর মোটামুটি সু¯’ হয়ে আবার সাংগঠনিক কাজে যোগ দেন। এক্সিডেন্ট কয়েক বছর পর আবার তিনি র্হাটএ্যাটাক করেন। তিনি আমেরিকা থাকা কালীন সময় বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। লন্ডন, কানাডা, দুবাই সহ অনেক দেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর ২০১৫ সালে প্রবাস জীবনের অবসান কাটিয়ে মাতৃভূমিস্বদেশে চলে আসেন। বয়সের ভাড়ে এবং শারিরিক অসু¯’ায় একদম দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। দেশে এসে ছেলে মেয়েদের সম্ভান্ত পরিবারে বিয়ে দেন তিনি। একজন গর্বিত পিতার সকল দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ক্রমান্নয়ে দৈহিক কর্ম ক্ষমতা কমে আসে ওনার। নানাবিদ রোগে বাসা বাদে ওনার শরীরে। দীর্ঘদীন শারিরিক ভাবে অসু¯’ থাকেন তিনি। শয্যাশয়ী অব¯’ায় থাকাকালীন সময়ে ও তিনি দান করে গেছেন অকারতে। গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে যে কেউ সাহায্যের জন্য ওনার কাছে আসলে তিনি কখনোও খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। বাধ্যকজনিত কারণে হঠাৎ করেই মাঝে মধ্যে অসু¯’ হয়ে পড়তেন। শ^াস কষ্ট রোগে ওনাকে কষ্ট দিত বেশী। অবশ্য মাঝে মাঝে তিনি সু¯’ বোধ ও করতেন। আবার কখনো ও কখনো রোগের মাত্র বেশী হলে তিনি শিশুর মত কান্নাকাটি করতেন। এলাকার অনেক মানুষ এসে ওনার থেকে যুদ্ধের গল্প শুনত। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন। অসু¯’ থাকা কালীন এলাকার মানুষদের সাথে বা”চারাও আসতো ওখানে দেখতে। তখন আব্দুল মছব্বির ওনার বিছানার পাশে থাকা চকলেটের বক্স থেকে সবাইকে চকলেট দিতেন। বিভিন্ন গল্প বলতেন। একদিন হঠাৎ মহান আল্লাহ তায়লার ডাকে সাড়া দেন তিনি। চিকিৎসকের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে দেশের মাটিতে নিজ মাতৃভূমিতে ২২ জৈষ্ট্য ১৪২৬ বাংলা, ০১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী, ৫ জুন ২০১৯ইং তারিখে বুধবার দিবাগত রাত ৩.৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নাল্লিাহি ওয়াইন্নালিল্লাহি রাজিউন) দেশের ও দেশের বাইরের অগণিত শুভাখাঙ্কিতদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। ওনার মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার আব্দুল মছব্বির সাহেবের মৃত্যু সংবাদ যে যেখানেই শোনতে পেয়েছেন সেখান থেকে ক্ষণিকের জন্য ওনাকে এক নজর দেখার জন্য সবাই ছোট এসেছেন। উপ¯ি’ত সকলের চোখ অশ্রæতে ভরা। সকলের মুখে ব্যথার কালো ছায়া। সব কিছু যেন থমকে গেছিল সেদিন ওনার মৃত্যুতে। তাতে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন পুর্বক এবং এলাকাবাসীর ভালোবাসায় সমাহিত করা হয়। জন্ম নিলে মৃত্যু হবে এটা চিরন্তন সত্য। কিš‘ ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকে তার আপন কীর্তি দিয়ে। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে আল্লাহ প্রদত্ত কিছু কিছু মানুষ দেশে ও জাতির কল্যাণে কাজ করে নিজেকে পুড়িয়ে সমাজকে আলোকিত করেন। এই এক দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় পাতায় স্বর্ণ অক্ষরে লেখা থাকবে আব্দুল মছব্বিরে নাম। জাতির বুকে লাল সবুজের পতাকায় অমর হয়ে রইবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার শ্রদ্ধেয় আব্দুল মছব্বির। আর চির অ¤øান হয়ে গণমানুষের অন্তরে থাকবেন সারা জীবন। যার ঋণ কখনোই পরিশোধের নয়। তিনি চির ভাস্কর।