৩ সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভে নতুন রেকর্ড, এবার ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন

312

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারে এই রিজার্ভের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ছাড়িয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই রিজার্ভ প্রথমবার অতিক্রম করেছিল ৩৪ বিলিয়ন ডলারের সীমা। ফলে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে আরও এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। দুপুর দেড়টার সময় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ৫০৯ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দুই লাখ ৯৮ হাজার ২৬৫ কো‌টি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রিজার্ভে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে আমদানি ব্যয়ের চাপ কম থাকায় এবং বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ও বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে।

সূত্র জানায়, গত ৩ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৩৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন রিজার্ভ ৩১ থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) প্রবাসীরা ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৪৬ লাখ (১৬ দশমিক ৩৬৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। আগের বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৫০৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা ১ হাজার ৫০৫ কোটি ১০ লাখ (১৫ দশমিক ০৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার পাঠান প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের দায় ও এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় শোধ করলে রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কমে যাবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল,পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ভুটান, মালদ্বীপ, ইরান ও মিয়ানমার এই ৯টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই সদস্য দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এই বিল পরিশোধ করা হলে রিজার্ভের পরিমাণ কিচুটা কমে আসবে।