বিয়ানীবাজার পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দুই সাংবাদিক

3281

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো: আব্দুস শুকুর। বাজেট অধিবেশনকালে তাঁর বিরুদ্ধে কুচক্রীমহলের আনীত দূর্র্নীতর অভিযোগ নিয়ে চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।

তারি প্রতিবাদস্বরূপ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিয়ানীবাজারে দুই সাংবাদিক নিচে হুবহু ওনাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস আপনাদের কাছে তুলে ধরা হলো।

শমশের আলম:- পৌর মেয়রের বক্তব্যে আমার চেলেঞ্জ।

গতকাল বিয়ানীবাজার পৌরসভার বাজেট ঘোষনা হল। আসলে এটা ব্যাজেট ঘোষনা নাকি সংবাদ সম্মেলন ঠিক বুঝে উঠতে পারি নাই।

সবকিছু ঠিকঠাক বুঝতে না পারলেও অন্তত এটা বুঝতে অসুবিধা হয় নাই যে তিনি তার সমুহ দোষ ত্রুটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে সু-কৌশলে ধূর্ত বাক্য বানে ও সুমিষ্ঠ গলাবাজির মাধ্যমে আবারও এ-ই পৌরসভার ৫০ হাজার জনগনকে বোকা বনিয়ে ধোকা দেবার সমুহ চেষ্টা যে করছেন তাতে সন্দেহের অনুমাত্র অবকাশ আমার রইল
না।

পৌর মেয়রকে চেলেঞ্জ ছুড়ে আমি আবারও বলছি — আশা করি আপনি জবাবগুলো সঠিক ভাবে গণমাধ্যমে দিবেন ।

১) সরকার জলবায়ু প্রকল্পে সোলার স্ট্রীট লাইট স্থাপনের জন্য টাকাটা কাকে দিয়েছে ? টাকা বিয়ানীবাজার পৌর ফান্ডে দিয়েছে না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে দিয়েছে ?

২) এই বরাদ্দ ৪ কোটি না ৫ কোটি পৌরসভার কেউ সঠিক জবাব দিতে পারে না। অনেক কমিশনারও জানেন না টাকার পরিমান কত ? প্রকৌশলীরা তো পীরের মুরিদ তারাও বলে ‘জানি না।’

৩) আপনার সাহস থাকলে আপনি জনগনের উদ্দেশ্য প্রথমে বলেন এই টাকার পরিমান কত ?

৪) পৌরসভার কাজের টেন্ডার করার মালিক কে ? পৌরসভা না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ?

৫) আপনি যে টেন্ডার করলেন , কোনও প্রচার প্রচারণা বা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন ? কোন্ পত্রিকায় দিয়েছেন ? আপনি বলতে পারবেন না ।

৬) আপনি ঠিকাদারের কাজ সংক্রান্ত সাইনবোর্ড দেন নাই কেন ? আপনার পৌরসভায় আপনি কাজের সাইন বোর্ড না লাগিয়ে সবসময় আপনার ঠিকাদারি পাটনারদের দীর্ঘদিন থেকে দুর্নীতির সুযোগ দিয়ে আসছেন ।

৭) আপনি জনগনকে জানিয়ে দেন জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রামকে শহর করার জন্য জলবায়ু ফান্ডে আপনাকে লাইটের খুটি প্রতি কত টাকা ধার্য্য করে দিয়েছেন ? আমি চ্যালেন্ঞ্জ করে বলছি আপনি বলতে পারবেন না ।

৮) আপনি বলেছেন ঠিকাদার কাজ করছে আপনার করার কিছু নাই । শুনেন এই পৌরসভার মানুষ ফিডার খায় না । ঠিকাদার দুর্নীতি করবে আর আপনার করার কিছু নাই । এসব কি বলছেন ? আপনার মাথা ঠিক আছে ?

৯) এগুলো স্ট্রীট লাইট নয়। এগুলো গার্ডেন লাইটের মাথায় একটা খুটি লাগিয়ে আপনারা কাজ করছেন। আপনি কি বলতে পারবেন আপনি বিয়ানীবাজার বাসীকে স্ট্রীট লাইট দিচ্ছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি এটা স্ট্রীট লাইট না ।

১০) আপনাদের তথ্য মতেই ধরলাম আপনারা ৩০০ টি গার্ডেন লাইট লাগাবেন। মাত্র ২০/২২ হাজার টাকার মোট খুটিকে ৪ কোটি দিয়ে ভাগ দিয়ে যে মুল্য দাড়ায় তা আপনি জনগনের সামনে দাড়িয়ে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলতে পারবেন ? ,

১১) চেলেঞ্জ ছুড়ে জনগনের উদ্যেশ্যে বলতে পারবেন আপনার লাগানো এই স্ট্রীট লাইটের এক একটা খুটির দাম
১,৩৩,০০০ টাকা । ( এক লাখ তেত্রিশ হাজার টাকা)।

১২) ঠিকাদারের সাথে আপনার যদি কোন যোগসুত্র না থাকে তবে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের এই সাগরচুরি আজই বন্ধ করুন । আর তাদের বলুন সিডিউল মোতাবেক কাজ করতে । তা না করলে আপনি জনগনকে সাথে নিয়ে তাদের বিরোদ্ধে মামলা করুন। আন্দোলন করুন । না, আপনি তা করতে পারবেন না।

১৩) আপনার বক্তব্যে আপনি বলেছেন যদি টিকাদারী প্রতিষ্ঠান চুরি করে তাহলে আপনার করার কিছু নাই। জনগন মামলা করতে। বাহ !

১৪) ঠিক আছে আমরা জনগন ঠিকই ঠিকাদারের অনিয়মের বিরোদ্ধে মামলা করবো — তার আগে নিজেকে ব্যর্থ ঘোষনা করে আপনি পদত্যাগ করুন ।

বিঃদ্রঃ আপনার ক্ষমতার তিন বছর আমার নখদর্পনে। জনগনের সামনে উপস্থাপন করার মত যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত আমার কাছে আছে ।

তাই নিজ কৃতকর্মের জন্য মহান আল্লাহরতালার কাছে মাফ চান। বেটাগীরী বাদ দিয়া জনগনের খেদমত করুন । দুনিয়া খুব ক্ষণস্থায়ী । চোঁখ মুজিলেই কিচ্ছু নাই । আপনাকে ধন্যবাদ ।

আহমেদ মোশতাক:- বিয়ানীবাজার পৌরমেয়রের বিরুদ্ধে পাল্টা চ্যালেঞ্জ!

দেশে থাকলে এতক্ষনে প্রত্যেকটি দুর্নীতির মামলা হয়ে যেত ! দু’দকে একবার জানানোর পর কিভাবে রাতের ঘুম হারাম হয়েছিল মনে আছে ?
আসুন আজ পুকুর চুরি বাদ দিয়ে মাত্র একটি সহজ বিষয় নিয়ে আলোচনা করি l বিষয়টি হচ্ছে অতি সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে আসা সাহায্য নিয়ে আমাদের সাবেক মন্ত্রীর হিসেবটি দেখে নিন l

বিয়ানীবাজার উপজেলা

এ পযর্ন্ত বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১৪৫ মেঃটন খাদ্যশস্য (চাউল) ১৪৫০০ অসহায় প‌রিবা‌রের মা‌ঝে ১০ কেজি হা‌রে বিতরণ করা হ‌য়ে‌ছে।
এ পর্যন্ত ৫,৪৩,০০০ টাকার শুক‌নো খাবার (আলু, ডাল,‌ তৈল, সাবান) ১২৯১ অসহায় প‌রিবা‌রের মাঝে বিতরণ করা হ‌য়ে‌ছে এবং ৭৬,০০০ টাকার শিশু খাদ্য (গুড়া দুধ ) ৩২০ টি প‌রিবা‌রের মা‌ঝে বিতরণ করা হ‌য়ে‌ছে।

বিয়ানীবাজার পৌরসভায় ১৮০০টি কার্ড (প্রতি ওয়ার্ডে ২০০) বিতরণ করে দেয়া হয়েছে যারা প্রতি মাসে ২০ কেজি চাউল পাবেন (প্রতি কেজি ১০ টাকা)।

বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১৩৫০ ছোট ও প্রান্তিক কৃষককে আউশ চাষের জন্যে বীজ, সার ও অন্যান্য সাহায্য দয়া হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলায় সর্বমোট আবাদী জমি ৫৮৫০ হেক্টর(২৬৫০হেক্টর হাওর, ৩২০০ হেক্টর হাওর ছাড়া) বোরো ধানের মধ্যে ২০% (৩০% হাওর, ১০% হাওর ছাড়া) কর্তন করা হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীরা কৃষকের মাঠের ফসল কাটার কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। সকলের মধ্যে বিরাট উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। ছাত্র লীগকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। সবাই সুস্থ থাকুন।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় উভয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রোগি পরীক্ষা চলছে।

জেলা , উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে এবং জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। সাধারণ জনগণের সাথেও যোগাযোগ আছে। সকল স্থরের দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছেন। সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

মহান অাল্লাহ অামাদের সহায় হোন।

নুরুল ইসলাম নাহিদ ।

এবার আপনি বলুন পৌরসভার কাকে আপনি (আলু, ডাল,‌ তৈল, সাবান) দিয়েছেন ?

(প্রতি ওয়ার্ডে ২০০) বিতরণ করে দিয়েছেন প্রতি মাসে ২০ কেজি চাউল পাবেন (প্রতি কেজি ১০ টাকা)।
আমার ওয়ার্ডে ২০০ পরিবার কারা ?

কাকে আপনি আউশ চাষের জন্যে বীজ, সার ও অন্যান্য সাহায্য দিয়েছেন ?

শিশু খাদ্য (গুড়া দুধ ) কাদের দিয়েছেন ?

প্রতি ওয়ার্ডে কত টন চাল দিয়েছেন ?

পুকুরচুরির হিসেব আজকে বাদ দিলাম l আশা করি আপনি আমার প্রশ্নগুলির উত্তর অবস্যই দেবেন l
সবশেষে প্রত্যেক গ্রামের মুরব্বিদের অনুরোধ আসুন আমরা সবাই আমাদের নিজ গ্রামকে ‘চোরের গ্রাম’ হিসেবে পরিচয় না দিয়ে নিজ চোরদের নিজেরাই বিচার করে নেই l (কথাটি প্রযোজ্য যাদের গ্রামে চোর আছে তাদের বেলায় )