বিয়ানীবাজারের সাংবাদিকতা কোন পথে

301

শমশের আলম:- তেলবাজীতে আজকাল বিয়ানী বাজারের সংবাদকর্মীরাও কিন্তু খুব একটা পিছনে নেই , আগামীতে দেশসেরা হওয়ার সম্ভাবনা বাকী মাত্র।

ইংরেজিতে একটা কথা আছে —
‘It is the people’s parliament always in sessions’ অর্থাৎ ‘সংবাদপত্র হল জনগণের সদাজাগ্রত সংসদ’ – এ কথাটি সাংবাদিকরা আজকাল বেমালুম ভুলে গেছেন ৷

সাংবাদিকরা জনগনের স্বার্থরক্ষার অতন্দ্র প্রহরী । একজন সাংবাদিক যেমন জনগনের স্বার্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে তেমনি ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্যও করবে সংগ্রাম । এটাই হল একজন সাংবাদিকের আদর্শ ।

সংবাদপত্রের নির্ভিক ধিক্কারবানী যখন ধ্বনিত হয়ে উঠে, সাথে সাথে পৃথিবীর লক্ষ কোটি কণ্ঠও প্রবল বিক্ষোভে সোচ্চার হয়ে উঠে । দূর্নীতিবাজরা সেই প্রবল গণবিক্ষোভের সম্মুখে টিকতে পারে না । ভীত অপরাধীরা সেই জাগ্রত জনমতের কাছে পরাজয় মেনে ধরাশায়ী হয় । এটা বার বার বিয়ানীবাজারের মানুষ প্রমান করেছে।

একজন সাংবাদিককে নির্ভিক ও অকপট হতে হয় । ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তা বিসর্জন দিয়ে দেশ, সমাজ ও এলাকার বৃহত্তর কল্যাণ কামনায় আত্মনিয়োগ করতে হয় ।

মাত্র ক’টা বছর আগেও দেশ, মানুষ, সমাজ ও জাতীয় সংস্কারের মহান ব্রত নিয়ে বিশেষ করে সমাজের নিত্য আবশ্যকতা , সরকারের সমালোচনা , জাতীয় এবং সামজিক দুর্নীতি ও অবক্ষয়ের কথা লিখতে সত্য-সুন্দর ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করে যশ ও সম্মান কুড়ানোর লক্ষ্যে স্বনির্ভর ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যক্তিরা মুলতঃ এই পেশায় আসতেন ।

তারা সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা, সামাজিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে জাতি, দেশ তথা সমাজের উপকার করতেন ।

আর আজকাল যারা সাংবাদিক নাম নিয়ে এ পেশায় আসেন এদের বেশীর ভাগ আসেন মুলত সেই চিন্তা করেই যে–কিভাবে টাকা কামাই করা যায় ?

আমি হতবাক হয়ে দীর্ঘ দিন থেকে দেখে আসছি যে বিয়ানী বাজারে প্রত্যেকটি পয়েন্টে অহরহ দুর্নীতি হচ্ছে যাহা দিবালোকের মত সত্য এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারী প্রকৌশলী ও জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন কৌশলে অপকৌশলে লুটপাট করে চলেছেন ।

ঠিকাদারেরা উপজেলা ও পৌরসভার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজশে নিয়মের বরখেলাপ করে কাজ করে আসছেন। তাতে তারা প্রতিনিয়ত এলাকার জনগনকে ঠকাচ্ছেন।

আমার কাছে এ বিষয়ে ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে কিন্তু অতীব কষ্টের বিষয় যে , এই বিষয়ে লিখতে কেন জানি আমাদের বিয়ানীবাজারের সাংবাদিকদের কলমগুলি সিলগালা করা । তারা অজ্ঞাত কারনে এগুলো দেখেও দেখে না ।

এককথা — দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিচ্ছু লিখা যাবে না । অনুরোধ করে এমন কি তথ্য প্রমান দিলেও তারা লিখতে চায় না । এ-র কারণ কী ? বরং কিছু সাংবাদিক সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ করার জন্য আমাকে অনুরোধ জানান । বিষয়টি রহস্য জনক।

আমার প্রশ্ন — তাহলে উনাদের কাজ কি ? অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ পর্যন্ত একটা ফলোআপ দুর্নীতির সংবাদ বিয়ানীবাজারের কোন সংবাদ কর্মীর নিকট থেকে প্রচার করা হয়নি।

আমি পঞ্চাশোর্ধ একজন লোক। যদি এখানকার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী ভাইয়েরা রীতিমতো বিয়ানীবাজারের দুর্নীতির চিত্রগুলো তুলে ধরতেন তাহলে আমি মোটেই ফেইসবুকে লিখতে আসতাম না।

যেহেতু উপজেলা লেভেলের সংবাদকর্মীরা সংবাদপত্র থেকে কোন বেতন ভাতা পায় না । স্বাভাবিক কারনে অনেক সংবাদকর্মী পয়সা কামাইয়ের জন্য বিভিন্ন পথ খুঁজে নেয় । এর মধ্যে ভাল কিছু মাধ্যমও আছে যেমন — বিজ্ঞাপন কালেকশন করা , ম্যাগাজিন বা বিভিন্ন অনুষ্ঠান কভার করা । এগুলো সৎ মাধ্যম ও সম্মানের কাজ।

আবার ভয়ঙ্কর কিছু মাধ্যমে যেমন লাজ লজ্জাহীন, বেহায়া বেশরম, বেইজ্জতি, বেহুরমতি, লাঞ্চিত, অপমানিত , নিন্দিত , টাউট , বাটপার ও সাংঘাতিক নাম নিয়েও যে এই পেশায় কিছু সংবাদকর্মী কাজে ন্যস্ত নহেন এমন কথাটিও চেলেঞ্জ ছুড়ে বলে দেয়ার মত কোন দুঃসাহসিক সাংবাদিকও পাওয়া দুর্লভ ।

উনারাও আজ বহুধা বিভক্ত । আবার এখানকার অনেকে এসব দালাল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তারা কেবল গোপনে গোপনে সমালোচনা করেই চলেছেন। অজ্ঞাত কারনে তারা মুখ খুলে সাহসের অভাবে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

আবার ঐ দাম্ভিক ক্ষমতাবান সাংবাদিকদের প্রভাবে দুর্নীতি কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী দুষ্কর্মের কোন সংবাদ তারা সংগত কারনে পরিবেশন করতেও পারছেন না ।

বিয়ানীবাজারের খারাপ সংবাদ কর্মীরা যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন তা হল — ধান্দাবাজী । কারও পক্ষে সাফাই গেয়ে আবার কাউকে চন্দ্র সুর্যের সাথে তুলনা করে তেলবাজি করছেন, সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির খবর চাপিয়ে রাখছেন । রাস্তাঘাটের কাজের অনিয়ম লুকিয়ে রেখে প্রচুর পয়সা কামাই করছেন।

এমনও অনেক সংবাদকর্মীর খবর আমাদের কাছে আছে যে, তারা উপজেলার প্রকৌশলী, থানার বাদী বিবাদি , পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, সাব- রেজিস্টারী অফিস,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স , বালু ব্যবসায়ী, পাথর ব্যবসায়ী , ঠিকাদার , চোরাইমাল পাচারকারী , হাসপাতালে খাবার সরবরাহকারী এইসব লোক তাদের মক্কেল ।

এদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত টাকা কামাই করে থাকে। আবার কিছু কিছু জায়গা থেকে তারা কাজ অনুপাতে নিয়মিত কমিশন পায় বলেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায় ।

খারাপ সংবাদ কর্মীদের টাকা আয়- উপার্জনের রাস্তা হল উপরের খাতগুলো । সুতরাং আপন আপন স্বার্থ বজায় রাখতে তারা কোন একটা দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করে না।

বিয়ানীবাজারে এখন যে রামরাজত্ব চলছে – অন্যায়, অবিচার আর লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে । এই অবস্থা যদি ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে তাহলে একসময়ে আর এই বিয়ানীবাজার ভাল মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে । সুতরাং এর একটা পরিবর্তন দরকার।