দুর্নীতির সাগরে নিমজ্জিত বিয়ানীবাজার পৌরসভা

613

শমশের আলম:- ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম কয়েস পৌরসভাকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করছেন। নিচে তাঁর সামান্য দুর্নীতির তথ্য দেয়া হল —

অন্যের দালালী করে যারা আমায় গালী দেন — তাদেরকে অনুরোধ করে বলছি একটা সাবাল হাতে নিন আর ঐ ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে বলুন ঐ প্রকল্পের ইষ্টিমিটের কাগজটা হাতে নিতে ।

এই রাস্তাটি ৪ নং ওয়ার্ডের ।
এবার কুড়ে দেখুন তো — ৪ ইঞ্চি সিসি তার উপর ৬ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাই আছে কি না ? এই রাস্তার ইষ্টিমিটের কাগজটি নিয়ে একজন ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসা করে জানুন এখানে কত লক্ষ টাকা পুকুরচুরি হয়েছে।

প্রকল্পের কাজের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রকল্পের পার্শে জনগনের জানার জন্য একটা সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা দরকার তাতে জনগন দেখতে পায় তাদের রাস্তার কাজটা কত টাকার ? ইষ্টিমিট কেমন ? ঠিকাদার কে ? প্রকল্প পরিদর্শক কে ? তার ফোন নং। এতে জনগন কাজের কোন ব্যাত্যয় ঘটলে পরিদর্শককে অভিযোগ করার সুযোগ থাকে ।

পৌরসভায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমুলক কাজ করতে হলে জনগন ও ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে কাজের ইষ্টিমিট বুঝিয়ে দিতে হবে ? জনগনকে সাইনবোর্ডের মাধ্যমে কাজের তথ্য জানিয়ে দিতে হবে কারন রাস্তা জনগণের ও জনগণই রাস্তার মালিক । এসব তথ্য গোপন রাখা অপরাধ এবং এর ব্যতিক্রম কিছু করা মানেই দুর্নীতি ।

একান্ত চুরি করার স্বার্থে ঐ ইঞ্জিনিয়ার সাহেব সাইন বসাতে ঠিকাদারকে বাধ্য করেন না । কারন তথ্য লুকিয়ে রেখে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা তার মুল লক্ষ্য ।

আজকে আর আমার সাথে বেটাগীরী না দেখাইয়া ঐ দুর্নীতিবাজ অপরাধী লোকটার সাথে আপনারা একটু বেটাগীরী দেখান । কারন উনি তো পৌরসভাকে সাবাড় করে ফেলছেন ।

এই দুর্নীতিবাজ লোকটি আসার আগে বিয়ানীবাজার পৌরসভায় পুকুরচুরির মত তেমন কোন দুর্নীতি দেখা যায় নাই। ২০১৮ সালে তিনি কয়েস সাহেব এই পৌরসভার আসার পর থেকেই শুরু হল ইদুর-বিড়াল খেলা । পাক্কা ওস্তাদ । তিনি শুরু করলেন ওস্তাদির শেষ রাতের খেলা — ইস্কাপনের টেক্কা । এইতো শুরু কাউন্সিলরদের পাত্তা না দেয়ার পালা ।

কতটা বেপরোয়া ও নীতিবর্জিত মানুষ হলে একজন কাউন্সিলকে তার ওয়ার্ডের কাজের ইষ্টিমিট না দিয়ে বরং বলতে পারেন ইষ্টিমিট নাকি কাউন্সিলরকে দেখাবার নিয়ম নেই ।

আমাকে গালী না দিয়ে এই কথাটি তাহাকে জিজ্ঞাসা করেন আর নিয়মটা দেখাতে বলেন ! এভাবে কাউন্সিলরদের ঘুমে রেখে তিনি কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে কামাই করেছেন।

এতে লাভবান হচ্ছেন পৌরসভার কর্তাগন , ঠিকাদার আর ক্ষতি হচ্ছে আমাদের জনগণের । মনে রাখবেন — অন্যায়কারীরকে সাহায্য করা মানে নিজের ক্ষতি করা আর জেনে শুনে পাপকে লালন করা ।

একটি কথা মনে রাখবেন — বসতে দিলে শুইতে দিতে হয়। আর দেরী নয়। অনেক হয়েছে। কাউন্সিলরা আমাদের পৌরসভার লোক। তারা মনে প্রানে এলাকায় উন্নতি চাইবে কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম কয়েস চাইবেন টাকা আর টাকা।

তার বাড়ী সুনামগঞ্জে । ইতিপুর্বে তিনি মাধবপুর থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ থাকায় ওখান থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয় ।

আমাদের কাউন্সিলারদের কাজ করতে দিন । লোকটা সম্পর্কে খবর নিন আর আপনাদের উন্নয়নের মডেল মেয়র সাহেবকে বলুন ঐ লোকটাকে ভালায় ভালায় বিদায়টা দিয়ে দিতে । না হয় রামেন্দ্র হোমের মত তাকেও সরাতে বাধ্য হব । এবং আন্দোলন জমে যাবে ।

একজন পৌর নাগরিক হিসাবে আমার গুরুদায়িত্ব পৌরসভার মঙ্গল কামনা করা । কেবল মাত্র বিবেকের তাড়নায় ও কোনরূপ স্বার্থের মোহ ছাড়া কেবল বিয়ানীবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে আমার এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ।

পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে শান্তিবাগ (পন্ডিতপাড়া) রাস্তা ও ৩ নং ওয়ার্ড সহ দুইটি রাস্তার কাজ পান ঠিকাদার ছফর মাষ্টার। জানা যায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় তিনি দুইটি রাস্তার কাজ পান ।

পন্ডিত পাড়া রাস্তার কাজে ৪ ইঞ্চি সিসি ঢালাইয়ের উপর ৬ ইঞ্চি আর সি সি ঢালাই করার কথা । মেয়র সরজমিনে কাজটি উদ্বোধন করলেও এই বিশাল লম্বা রাস্তায় ৪ ইঞ্চি সিসি ঢালাই না করেই কাজটি করা হয় । এ যেন — ‘কাজির গরু কিতাবেও আছে গোয়ালের নাই।’

মেয়রের জ্ঞাতসারে না অজ্ঞাতে তা আমার জানার বিষয় না হলেও এতে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম কয়েস ও ঠিকাদার মিলে দূর্নীতির মাধ্যমে বিশাল টাকা আত্মসাৎ করেন যাহা তদন্ত করলে “রাস্তা” নিজেই বলে দেবে এখানে কি পরিমান দুর্নীতি হয়েছে।

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড খাসাড়ীপাড়ার রাস্তার কাজ ৪ ইঞ্চি সিসি ঢালাই ও ৬ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাই করার কথা থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার মিলে কাউন্সিলারের জ্ঞাতসারে ৪ ইঞ্চি সিসি ঢালাই না করে শুধু ৬ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাই করে রাস্তাটির কাজ করা হয় ।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলার মিসবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান — ঠিকাদারকে দিয়ে উনারা নাকি অন্য রাস্তায় এই ৪ ইঞ্চি ঢালাইয়ের কাজ করাইয়া কাজটি নাকি উসল করবেন । এইটা আবার কোন নিয়ম ? আমার জানা নাই । আপনাদের জানা আছে কি না জানিনা।

৯ নং ওয়ার্ডের নিদনপুরের মজরকান্দি রাস্তায়ও ৪ ইঞ্চি সিসির কাজ না করে কেবল ৬ ইঞ্চি আরসিসি কাজ করে বিশাল অংকের টাকা পুকুরচুরি হয় । ভালমতে হিসাব নিলে দেখা যাবে উপরের ৬ ইঞ্চি ঢালাইয়েও সব জায়গায় ৪ ইঞ্চি কাজ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না ।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আফজাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি রাগ করে বলেন –‘আমি আমার ওয়ার্ডের মানুষকে বুঝাইতে পারিয়াছি। ঠিকাদার কাজটি বুঝিয়ে দিয়েছেন।’ কাজটি নিয়ম মোতাবেক করা হয়েছে কি না প্রশ্ন করলে তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন।

আপনারা আমাকে গালী না দিয়ে একটি বার মজরকান্দি রাস্তায় গিয়ে সাওইল দিয়ে একটা পাড় মেরে দেখে এসে আমাকে মন মত গালী দেন ।

কত রাস্তার কথা বলবো আর কত লিখবো ? আগামীতে আরও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর আসবে পর্যায়ক্রমে ।