শুরু হলো বিজয়ের মাস

195

ডিসেম্বর, অহংকার আর গৌরবের মাস। বিজয়ের মাসের প্রথম দিন আজ। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই সূচনা হয় বাঙালির নবজীবনের। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাভূত হয় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। বিশ্বের বুকে আবির্ভূত হয় একটি জাতি-রাষ্ট্র বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন, আছে নানা চ্যালেঞ্জ। 

বাঙালির জাতীয়তাবোধের উন্মেষের সুদীর্ঘ ইতিহাসে অবিস্মরণীয় মাস ডিসেম্বর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে জনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের মানুষ। ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম আর ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আসে জাতীয় মুক্তি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল ১৬ ডিসেম্বর। তবে এই ডিসেম্বর মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আল-শামস বাহিনীর সহযোগিতায় জাতির মেধা, শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস যজ্ঞে মেতে উঠেছিল। পুরো জাতিকে মেধাহীন করে দেওয়ার এমন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের নজির বিশ্ব ইতিহাসে আর নেই। এই কারণে বাঙালি বিজয়ের মাসটি উদযাপন করে একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনায়।

প্রতিবছর বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা ও নানা অনুষ্ঠানে মাসজুড়ে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকা ওড়ে দেশের আনাচকানাচে। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আনুষ্ঠানিক উত্সব আয়োজনে ছেদ পড়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজনটি এবার বাতিল করা হয়েছে।

এবার বিজয় দিবস এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। অন্ধকারের শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপশক্তিকে মোকাবেলার ডাকও এসেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বানে আজ পয়লা ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে মত্স্য ভবন পর্যন্ত মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। প্রতিবছরের মতো এবারও পদক্ষেপ বাংলাদেশ উদযাপন করবে ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রহর’ ও ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত’। এবার অনুষ্ঠান হবে অনলাইনে