করোনামুক্ত হওয়ার পরও হতে পারে যেসব রোগ

185

করোনা থেকে সেরে ওঠার পর দীর্ঘমেয়াদি নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বহু রোগী। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে।

করোনা ভালো হওয়া পরে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যত্ন। করোনা নেগেটিভ হলে এটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, আপনি পুরোপুরি সুস্থ ও আবারও করোনা আক্রান্ত হবেন না। বরং করোনামুক্ত হলেও আপনি একাধিকবার ফের একই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

করোনা ভালো হওয়ার পর যেসব রোগ হতে পারে-

১. শ্বাসকষ্ট। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা বা সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। বিশেষ করে যারা আইসিইউতে থেকেছেন, তাদের শ্বাসক্রিয়া স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে।

২. কয়েক সপ্তাহ কাশি থাকতে পারে। ফুসফুসে যে ক্ষত বা ফাইব্রোসিস হয়ে যাচ্ছে, তার ফলে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। একটুতেই তাই অনেকে হাঁপিয়ে উঠছেন।

৩. অবসাদ আর ক্লান্তি। পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। হাঁটাচলায় ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার সঠিকভাবে খেতে না পারায় ওজন কমে যায়, ফলে শরীর দুর্বল হয়।

৪. খাবারে অরুচি, স্বাদ ও গন্ধ দীর্ঘ সময়ের জন্য চলে যাওয়া।

৫. মাথাব্যথা। অনেকের মানসিক বিপর্যস্ততা দেখা দেয়। মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির সমস্যা হয়। স্মৃতি হারানো, বিষণ্নতার মতো সমস্যা হতে পারে।

৬. খাবার গিলতে, চিবুতে সমস্যা হতে পারে। যারা আইসিইউতে ছিলেন বা গলায় টিউব দেয়া হয়েছিল, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়। খাবার আটকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। কণ্ঠস্বরেও কারও কারও সমস্যা হয়। কণ্ঠ ফ্যাসফ্যাসে হয়ে যায়, কথা বলতে অসুবিধা হয়।

৭. ওজন কমতে পারে। আগের ওজনে ফিরে যেতে সময় লাগতে পারে।

করোনামুক্ত হওয়ার পর কী করবেন

সুস্থ হওয়ার পরও মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবহার করুন। একজন পুষ্টিবিদের সাহায্যে ক্যালরি চার্ট করে সঠিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন। প্রচুর তরলজাতীয় খাবার খান।

ফুসফুসে জটিলতা ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাবেন। দিনেও একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। মন প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন।