শামীম ওসমানের হুঁশিয়ারি: আয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দে

201

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, মনে করেছিলাম রাজনীতি থেকে বিদায় নেবো। ৭১ এর চেতনা নিয়ে আগের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আবার মাঠে নামবো।

তিনি বলেন, এখন যে খেলা শুরু হয়েছে তা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। আলেম সমাজের শতকরা ১০ ভাগও তাদের সঙ্গে নেই। ৫০ বছর পর হঠাৎ করে ভাস্কর্যের কথা মনে পড়লো কেন?

শামীম ওসমান বলেন, ‘আল্লামা শফি সাহেবকে যেভাবে অপমান করেছেন। তার পরিবার দাবি করেছে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তারা ভাবছে তারা অনেক শক্তিশালী। তারা প্রধান খেলোয়াড় না, তাদের সামনে রাখা হবে। নারায়ণগঞ্জে তাদের খুব আনাগোনা, প্রায়ই আসে। হয়তো আমার বাসায় যায়, নয়তো আমার কাছের কারো বাসায় যায়। নতুন নতুন মির্জাফর তৈরির চেষ্টা করে। ’

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জের নাভানা মাঠে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি শামীম ওসমান বলেন, যারা বিগত সময়ে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে চলেছেন, শেখ হাসিনার আদেশ অকাতরে পালন করেছেন, রাজপথে জীবন দিয়েছেন তারা এখন অনেক কষ্টে আছেন। তারা ধাক্কাধাক্কি করেও সামনে আসতে পারেন না।

তিনি বলেন, ৪৯ জন ভাইকে আমরা হাত দিয়ে দাফন করেছি। অপরাধ একটাই আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতাম। অপরাধ আমরা স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলতাম। আমার নেতাকর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। ঘরে ডুকে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা তো কিছুই করিনি। গোলাম আযমকে নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ করায় হামলা হলো। এখনো চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে হয়। অনেকেই পঙ্গু হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন।

শামীম ওসমান বলেন, ভাস্কর্য ভাঙবেন? আসেন সব ছেড়ে একজন সাধারণ মানুষ হয়ে মাঠে থাকবো দেখি কার কত জোর। আমাদের আপনারা ইসলাম বুঝান, আমরা কি বুঝি না। ২২ বছর ধরে তাহাজ্জুদ পড়ি। কারো কাছে হিসেব দিতে হবে আমার? হিসেব দেবো আল্লাহর কাছে।

থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার পরিচালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।